Home বিশেষ প্রতিবেদন ফাঁসির ঘাটে সেতু তৈরির  প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটে জিতে দল বদল হয়েছে ,...

ফাঁসির ঘাটে সেতু তৈরির  প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটে জিতে দল বদল হয়েছে , তবু সেতু তৈরি হল না

এক সময়ে কাকিনা মোড় থেকে ফাঁসির ঘাট হয়ে কোচ বিহার রাজার দরবারে জেতেন সাধারন মানুষ। কিন্তু ফাঁসির ঘাটে সেতু না হওয়াতে গুরুত্ব্ব কমেছে কাকিনার রোডের। সেতু না থাকাতে সাধারন মানুষকে ঘুর পথে তোর্ষা সেতু হয়ে যাতায়াত করতে হয়। ভোটের সময় অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেন সেতু তৈরির বিষয়ে। পরবর্তীতে দল ত্যাগ করে প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছেন অনেকেই। সেতু তৈরির বিষয়ে কেন্দ্র রাজ্যের উদাসীনতার কথা লিখেছেন ফাঁসির ঘাট সেতু আন্দোলনের সভাপতি কাউসার আলম ব্যাপারী

fasirghat
ফাসিরঘাটে সেতু

 

fasirghat andolon leader
ফাঁসির ঘাট সেতু আন্দোলনের সভাপতি কাউসার আলম ব্যাপারী

বহতা তোর্সা চীনের তিব্বতের চুম্বি ভ্যালিতে উৎপত্তি হয়ে মাচু নামে প্রবাহিত হয়ে ভুটানে প্রবেশ করে আমোচু নামে অভিহিত হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে তোর্সা নামে পরিচিত। এই তোর্সা নদী বক্ষে কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্র সাগরদিঘী চত্বর থেকে প্রায় ৬০০-৭০০ মিটার দূরে ঐতিহাসিক নৌকাঘাট ফাঁসিরঘাট। হাজার হাজার মানুষের নিত্য পারাপারের একমাত্র ভরসা ও প্রধান মাধ্যম ফাঁসিরঘাট (fasirghat)।

Whatsapp group এ যুক্ত হোন 

আরোও পড়ুন

ফাসিরঘাটে (fasirghat) সেতুর প্রয়োজনীয়তা

এই ঘাটটিকে কোচবিহারের অন্যতম  প্রবেশদ্বার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এরকম একটি ব্যস্ততম জায়গায় আজও পর্যন্ত সড়ক সেতু  গড়ে ওঠেনি। ভরা বর্ষায় মাঝেমধ্যেই নৌকা দিয়ে পারাপার চললেও অধিকাংশ সময় তা  থাকে বন্ধ। শীতের মরশুমে কোচবিহার জেলা শাসকের তত্ত্বাবধানে কোচবিহার জলপথ সমবায় সমিতির মাধ্যমে গড়ে ওঠে বাঁশের সাঁকো। স্বাধীনতার দীর্ঘ  কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও এই নৌকা ঘাটে একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি ডান বাম কেউই।   কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের অধিকাংশ মানুষ শহরে প্রবেশের জন্য এই ঘাটটিকে ব্যবহার করে। বিশেষ করে কোচবিহার ১ নং ব্লকের কোচবিহার পৌর এলাকা এবং সুকটাবাড়ি, মোয়ামারী , চিলকির হাট, ঘুঘুমারি, পুটিমারি ফুলেশ্বরী, পাঁটছাড়া, হাড়িভাঙ্গা, ফলিমারী, সহ নয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাজার হাজার মানুষ এই নৌকো ঘাটের উপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল শহর প্রবেশের জন্য।  এছাড়াও সিতাই বিধানসভা ক্ষেত্রে কাম্তেশ্বরী সেতু নির্মিত হওয়ায় এই ফাঁসিরঘাটের গুরুত্ব কয়েক গুনে বেড়ে গেছে।

fasirghat setu
ফাসিরঘাটে সেতুর প্রয়োজনীয়তা
সেতুর জন্য আন্দোলন ও রাজনৈতিক উদাসীনতা

এই এলাকার অধিকাংশ  সাধারণ জনগণ মনে করেন  রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে এখানে সড়ক সেতু তৈরি হয়নি। বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছে বিভিন্নভাবে সেতুর দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠন ফাঁসিরঘাট সেতু (fasirghat) আন্দোলন কমিটি বারবার দরবার করেছে কিন্তু সড়ক সেতুর ঘোষণা হয়নি। শাসক দলের নেতারা থেকে মন্ত্রী সবার কাছে সেতুর দাবিতে দরবার করেছে আন্দোলনকারীরা। গত ২০১৯ সালে কোচবিহার রাসমেলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের সময় কোচবিহার যুব তৃণমূল কংগ্রেসের তৎকালীন যুব সভাপতি মৃত বিষ্ণুব্রত বর্মনের মাধ্যমে সেতুর দাবিতে স্মারকলিপি তুলে ধরে আন্দোলনকারীরা।

এরপর সেই বছরের ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে আন্দোলনকারীদের হাতে নবান্ন থেকে একটি চিঠি এসে পৌঁছায় স্মারকলিপির প্রাপ্তিস্বীকার ও বিষয়টি PWD ডিপার্টমেন্টের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এই মর্মে অবগতি করনের জন্য। আন্দোলনকারীরা কোচবিহার জেলা শাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি পত্র পাঠিয়েছে। সেই সঙ্গে বর্তমান সংসদ নিশীথ প্রামাণিকের হাতেও দাবি পত্র তুলে দেয় আন্দোলনকারীরা। এখানেও কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারই সেতু তৈরির বিষয়ে  চরম উদাসীন বলে অভিযোগ উঠছে ।

 অতীতে গুরুত্ত্ব আর বর্তমানে পরিস্থিতি

সিতাই বিধানসভা ক্ষেত্রের মানুষজন নবনির্মিত কম্তেশ্বরী সেতু  দিয়ে কোচবিহার শহর প্রবেশের জন্য যে  রাজ আমলের কাকিনা রোডটি ব্যবহার করবে তা এসে লেগেছে ফাঁসির ঘাট(fasirghat) সংলগ্ন টাপুরহাট চৌপতি যার পূর্বতন নাম কাকিনা মোড়।সেতু তৈরি না হওয়াতে এই মোড়ের গুরুত্ব্ব কমে গেছে।

fasirghat
ফাসিরঘাটে সেতু

অন্যদিক রাজ্য সড়ক 16A  লাগোয়া ফাঁসিরঘাটে সড়ক সেতু হলে জামালদা, মেখলিগঞ্জ, হলদিবাড়ি, জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ি সহ গোটা উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কোচবিহার সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ১৭ কিলোমিটার রাস্তা কমে আসবে। কোচবিহার শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের সাধারন মানুষদের একমাত্র ভরসা ঘুঘুমারিতে অবস্থিত তোর্সা  সড়ক সেতুর উপর নির্ভরশীল হতে হয়  । এই তোর্সা সেতুর দুইদিকে পরপর দুটি রেলগেট থাকায় সময়ের অপচয়ের সঙ্গে সঙ্গে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। প্রচন্ড যানজটের কারনে ঘন্টার পর ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকতে হয়।

রাজ্য ও  কেন্দ্র উদাসীন

ভোট আসে ভোট যায় । প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরে উদাসীন থাকে  নেতা থেকে মন্ত্রী। এবারে জনমানসে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ, ভোটবাক্সে এর প্রভাব পড়বে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। ইতিমধ্যেই  এই ইস্যুতে ভোট যুদ্ধের ময়দানে নেমে পড়ার চিন্তাভাবনা নিয়েছে বিশেষ কিছু রাজনৈতিক দল। গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা ক্ষেত্রের বর্তমান বিধায়ক মিহির গোস্বামী নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচনে জয় লাভ করলে ফাঁসিঘাটে সড়ক সেতু নির্মাণে উদ্যোগী হবেন। কিন্তু জয় লাভের পরে সেতু নির্মাণের জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি । তৃণমূলের টিকিটে জিতে পরবর্তীতে দল বদল করে বিজেপিতে নাম লেখান । তবুও প্রতিশ্রুতি পালনে কোনো উদ্যোগ নেন নি। গত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন সময়ে বিধানসভায় ফাঁসির ঘাটে সড়ক সেতুর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন কোচবিহার উত্তর বিধানসভা ক্ষেত্রের ফরওয়ার্ড ব্লকের বিধায়ক।

তবে আমরা মনে করি ভোট নিজস্ব ব্যাপার যে যার মতো ভোট দেবে। অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে রাজনৈতিক মন্তব্য আমার শোভনীয় নয়। তবে আমি আশা করি ভোট-পরবর্তী নির্বাচিত রাজ্য সরকার অবশ্যই চিন্তা-ভাবনা করবে। যতদিন পর্যন্ত আমাদের দাবি পুরণ হচ্ছে না ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

1 COMMENT

  1. বঞ্চনা নয় অধিকার চাই, ফাসিরঘাটে ব্রিজ চাই

Leave a Reply

%d bloggers like this:
Skip to toolbar