Home বিশেষ প্রতিবেদন ভোটের প্রচারের শরীরের খেয়াল কিভাবে রাখবেন ?

ভোটের প্রচারের শরীরের খেয়াল কিভাবে রাখবেন ?

লিখেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: অজয় মন্ডল

শরীর খেয়াল নিন
চিকিৎসক অজয় মন্ডল

সকাল-সকাল প্রচারে বেরোনোর থাকলে ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম বা প্রাণায়াম করে নিতে হবে। এর পরে গ্রিন-টি বা লিকার চা, সঙ্গে বিস্কুট বা হাল্কা খাবার খেয়ে নিতে হবে। বেলা গড়াতেই মাথার উপরে গনগনে সূর্য। তাই প্রচারের ফাঁকে ডাবের জল, গ্লুকোজ বা নুন-চিনির শরবত খেতে হবে। খালি পেটে থাকলে মুশকিল। তাই সময় বের করে হাল্কা খাবারও খেতে হবে। দুপুরের মেনুও হওয়া চাই সহজপাচ্য। দুপুরে আধ ঘণ্টা বিশ্রাম জরুরি। তাতে বিকেলের প্রচারে অসুবিধে হবে না।ভোটের প্রচারে ফুলহাতা সুতির জামা, রোদ চশমা, মাথায় টুপি রাখা দরকার। একাধিক বার স্নান জরুরি। তবে রোদ থেকে ফিরেই স্নান করা যাবে না। এসি ঘর থেকে সরাসরি রোদে না বেরনোই ভাল।
যে প্রার্থীরা ভোটে দাঁড়িয়েছেন তাঁদেরকে বলব, শরীরে যেন ফ্লুইডের মাত্রা বজায় থাকে। গরমে শরীর ঘেমে গিয়ে অনেক জল বেরোয়। তাই জলের ঘাটতি পূরণে মিনারেল ওয়াটার, ফলের রস, ডাবের জল, ওআরএস খাওয়া যেতে পারে। তেল–ঝাল–মশলা ছাড়া যতটা সম্ভব হালকা খাবার খাওয়া জরুরি। প্রার্থীদের মধ্যে কারও হয়ত ডায়াবেটিস কিংবা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকতে পারে। কাজেই অহেতুক চিনি না খাওয়াই ভাল। কারণ চিনিতে প্রচুর ক্যালোরি থাকে। একবারে বেশি করে না খেয়ে তিন–চার ঘণ্টা গ্যাপ দিয়ে বারে বারে খাওয়া শরীরের জন্য ভাল। কোথাও প্রচারের সময় পথে কিছু খাওয়ার ইচ্ছে হতেই পারে। তাই বলে ভাজা, তৈলাক্ত খাবার নয়। এগুলি খেলে শরীর থেকে তাপ বেশি নির্গত হয়ে ঘাম হবে।
শরীরে জলের মাত্রা বজায় রাখার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে, কখনই একদম খালি পেটে বা খুব ভরা পেটে প্রচারে না যাওয়া। নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বারংবার খেতে হবে। প্রবীণ প্রার্থীরা খাবারের বিষয়ে অতি সচেতন হবেন। বেশিরভাগ সময় রোদের মধ্যে থাকার ব্যাপার রয়েছে। তাই বাড়িতে হালকা সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার, যাতে সহজে হজম হয়।’‌
রোদে পুড়ে যাওয়ার হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করে যে–সমস্ত খাবার সেগুলি খাওয়া জরুরি। মুড়ি, শশা, টক দই, সবজি–স্টু, ভাত, মরশুমি ফল প্রভৃতি খাবার থেকে অ্যান্টি মেলাটোনিন শরীরে সরবরাহ হয়ে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
এখন করোনার কঠিন সময় মুখে মাস্ক থাকাটা জরুরি । তার সাথে স্যানিটাইজার ব্যবহার অবশ্যই করতে হবে । যদি সম্ভব হয় নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখতে হবে।

আরোও পড়ুন 

ফল খান:-
১.তরমুজ — এতে প্রচুর জল ও পটাশিয়াম আছে।
২.শশা – এতে অনেকটাই জল ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে ।
৩.পাকা পেঁপে, পেয়ারা, জামরুল। মুসুম্বি বা লেবু জাতীয় ফল খাওয়ার আগে কিছু খেয়ে নেবেন। খালি পেটে খেলে অ্যাসিড হতে পারে।

সকালে খাবার :-
১.মুড়ি, চিঁড়ে, খই সঙ্গে টক দই এগুলিতে কম ক্যালোরি থাকে।
২.অঙ্কুরিত ছোলা, সঙ্গে একটি ফল।
৩.ওটস, কর্নফ্লেক্স।
৪.শশা–মুড়ি, মাখন, ছানা অথবা একটা ডিম সেদ্ধ।

দুপুরের খাবার:-
১.ভাত, ডাল, পটল বা ঝিঙের তরকারি।
২.পাতলা মাছের অথবা মুরগির ঝোল, সঙ্গে ঘরে পাতা টক দই।
৩.নিরামিষভোজীরা সয়াবিন খেতে পারেন এতে প্রোটিন ভাল রয়েছে।

বিকেলে খেতে পারেন:-
বিস্কুট, মুড়ি, ছোলা, শশা, মুড়ির সঙ্গে ইচ্ছে হলে অল্প চানাচুর, ঝুরিভাজা মেশাতে পারেন।

রাতের খাবার:-
১.ভাত অথবা রুটি, ডাল,
সবজি অথবা মাছ, চিকেন
বা ভেজ স্টু, স্যুপ।

প্রচারে সঙ্গে রাখুন:-
১.বাড়িতে তৈরি করা লস্যি, ফলের রস, মুড়ি, খই, বিস্কুট, অঙ্কুরিত ছোলা।
২. ওআরএস— শরীরে লবণ জলের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
৩.ডাবের জল খেতে পারেন।
সাবধানতা :-
1. দোকানের রোল, চাউমিন, বিরিয়ানি, প্যাটিস, পরোটা, পিৎজা, বার্গার প্রভৃতি তৈলাক্ত খাবার ও কোল্ডড্রিঙ্ক খাবেন না। এগুলি অতিরিক্ত ক্যালোরি সমৃদ্ধ। বাজার চলতি মিষ্টি দই না খাওয়াই ভাল। কাটা ফল তো কখনোই নয় ।

NO COMMENTS

Leave a Reply

%d bloggers like this:
Skip to toolbar